বুধবার ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকেয়া ঋণে নিলামের মুখে দেশবন্ধু পলিমারের সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ | 23 বার পঠিত | প্রিন্ট

বকেয়া ঋণে নিলামের মুখে দেশবন্ধু পলিমারের সম্পদ
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের বন্ধক রাখা সম্পদ নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। প্রায় ৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ অনাদায়ের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সুদসহ কোম্পানিটির মোট দায় দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ঋণ পরিশোধে একাধিকবার সুযোগ দেওয়ার পরও ব্যর্থ হওয়ায় অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী বন্ধককৃত সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Responsive Ad Banner

ঢাকা ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে দেশবন্ধু পলিমার এলসি সুবিধা, টার্ম লোন এবং ক্যাশ ক্রেডিটসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে আসছে। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ না করায় কোম্পানিটি ডিফল্ট অবস্থায় পড়ে। এমনকি পুনঃতফসিল সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্টও পরিশোধ করতে পারেনি।

নিলামে তোলা সম্পদের মধ্যে রয়েছে নারসিংদীর পলাশ থানার কুয়াদি মৌজায় অবস্থিত ১২৯ শতাংশ জমি। পাশাপাশি চারসিন্দুর এলাকায় অবস্থিত কারখানার জমি, যন্ত্রপাতি, স্পেয়ার পার্টস, ভারী সরঞ্জাম ও মজুদ পণ্যও বিক্রির আওতায় আনা হয়েছে।

আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ মে দুপুর ২টার মধ্যে মতিঝিলের আদমজি কোর্টে অবস্থিত ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে সিলগালা দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। একই দিন দুপুর ২টা ১ মিনিটে দরপত্র খোলা হবে, যেখানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও দরদাতারা উপস্থিত থাকবেন।

ব্যাংক জানিয়েছে, নিবন্ধিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতে নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং সফল দরদাতাকে নিবন্ধন, স্ট্যাম্প ডিউটি ও প্রযোজ্য করসহ সকল খরচ বহন করতে হবে।

২০১১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশবন্ধু পলিমার বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটে রয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানির রাজস্ব ৮০ শতাংশ কমে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। একই সময়ে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) রাজস্ব আরও কমে ৬০ লাখ টাকায় নেমে আসে এবং লোকসান দাঁড়ায় ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্মিলিত লোকসান ২ টাকা ৮৯ পয়সায় পৌঁছেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ২৪ কোটি টাকা লোকসানের কারণে কোম্পানিটি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারেনি।

কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি এবং ডলার সংকটে কাঁচামাল আমদানির এলসি খুলতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে বেশি দামে কাঁচামাল কিনতে হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণের সুদের হার বৃদ্ধিও আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

সর্বশেষ মার্চভিত্তিক শেয়ারহোল্ডিং অনুযায়ী, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৩.৫৪ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮.০২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৮.৪৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:১৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com